Bengali Grammar - RajdeepPaulOfficial.in https://rajdeeppaulofficial.in/students-zone/bengali-grammar/ A site For Students, Teachers & Learners.. Wed, 07 Jan 2026 16:24:28 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://rajdeeppaulofficial.in/wp-content/uploads/2020/09/cropped-Rajdeeppaulofficial.in-Favi-32x32.jpg Bengali Grammar - RajdeepPaulOfficial.in https://rajdeeppaulofficial.in/students-zone/bengali-grammar/ 32 32 সহজে শিখি সমাস | কর্মধারয় সমাস ও তৎপুরুষ সমাস (Karmadharoy, Tatpurus Somas) https://rajdeeppaulofficial.in/tatpurus-karmadharay-somas-tutorial/ https://rajdeeppaulofficial.in/tatpurus-karmadharay-somas-tutorial/#comments Tue, 03 Nov 2015 19:23:25 +0000 https://rajdeeppaulofficial.in/?p=227 বাংলা ব্যাকরণের মধ্যে কর্মধারয় সমাস (Karmadharoy Somas) ও তৎপুরুষ সমাস (Tatpurus Somas) হলো সমাসেরই দুইটি আলাদা আলাদা প্রকার। সমাসের মোট ছয়টি প্রকার আছে যেগুলোর বিষয়ে আমরা আমাদের Somas Tutorial Series এর প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে পড়েছিলাম যার মধ্যে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও পড়েছিলাম এবং সমাসের ... Read more

The post সহজে শিখি সমাস | কর্মধারয় সমাস ও তৎপুরুষ সমাস (Karmadharoy, Tatpurus Somas) appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
বাংলা ব্যাকরণের মধ্যে কর্মধারয় সমাস (Karmadharoy Somas) ও তৎপুরুষ সমাস (Tatpurus Somas) হলো সমাসেরই দুইটি আলাদা আলাদা প্রকার। সমাসের মোট ছয়টি প্রকার আছে যেগুলোর বিষয়ে আমরা আমাদের Somas Tutorial Series এর প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে পড়েছিলাম যার মধ্যে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও পড়েছিলাম এবং সমাসের বিভিন্ন প্রকারে বিষয়েও সংক্ষিপ্ত ধারণা পেয়েছিলাম। এরপর সমাস টিউটোরিয়াল সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টিউটোরিয়ালগুলোতে আমরা যথাক্রমে দ্বন্দ্ব ও অব্যয়ীভাব সমাস এবং দ্বিগু ও বহুব্রীহি সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে পড়েছিলাম। 

আজকের এই টিউটোরিয়ালটি হলো সমাস টিউটোরিয়াল সিরিজের চতুর্থ টিউটোরিয়াল এবং এই টিউটোরিয়ালটিতে আমরা সমাসের ছয়টি প্রকারের মধ্যে কর্মধারয় সমাস ও তৎপুরুষ সমাসের (Karmadharoy Somas and Tatpurus Somas) এই দুইটি প্রকারের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানবো, বুঝবো এবং শিখবো। তবে সমাসের সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা না থাকলে আজকের টিউটোরিয়ালটি কোনোভাবেই বুঝে ওঠা সম্ভবপর নয় তাই তোমাদের মধ্যে যারা এখনো সমাসের প্রথম টিউটোরিয়াল আর্টিকেলটি এখনো পড়ো নি তারা এই লিংকে ক্লিক করে আগে সেটা পড়ে নাও, কারণ ওই টিউটোরিয়ালটি পড়ে নিলে আজকের এই টিউটোরিয়ালটি খুব সহজেই তোমরা বুঝে নিতে পারবে। 

তৎপুরুষ সমাস (Tatpurus Somas)

তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

উদাহরণস্বরূপ —
   

১. রথকে দেখা  = রথদেখা (এখানে এর পূর্বপদ “রথ” এর সঙ্গে বিভক্তি “কে” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর এই সমাসটিতে এর পরপদ “দেখা” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “রথদেখা” বললে পূর্বপদ “রথ” কে বুঝি না, “রথদেখা” বললে আমরা এর পরপদ “দেখা” কেই বুঝি, রথ না দেখলে কেউ রথদেখা বলে না তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য থাকে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।)     

২. বিশ্বে বিখ্যাত = বিশ্ববিখ্যাত (এখানে এর পূর্বপদ “বিশ্ব” এর সঙ্গে বিভক্তি “এ” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর এই সমাসটিতে এর পরপদ “বিখ্যাত” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “বিশ্ববিখ্যাত” বললে পূর্বপদ “বিশ্ব” কে বুঝি না, “বিশ্ববিখ্যাত” বললে আমরা এর পরপদ “বিখ্যাত” কেই বুঝি, “বিশ্ববিখ্যাত” বলতে আমরা সারা বিশ্বকে বুঝি না, আমরা এখানে এমন কোনো মানুষকে বা কোনো জিনিসকে বুঝি যে সারা বিশ্বে বিখ্যাত তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।)

তৎপুরুষ সমাসের প্রকার (Types of Totpurus Somas)

তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের সঙ্গে যুক্ত বিভক্তি অনুসারে তৎপুরুষ সমাসকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এই ভাগ গুলি হলো – দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, তৃতীয়া তৎপুরুষ, চতুর্থী তৎপুরুষ, পঞ্চমী তৎপুরুষ, ষষ্ঠী তৎপুরুষ এবং সপ্তমী তৎপুরুষ।এই ছয়প্রকার ছাড়াও তৎপুরুষ সমাসকে আরও তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে  তিনটি ভাগ হলো উপপদ তৎপুরুষ, নঞ তৎপুরুষ, এবং অলুক তৎপুরুষ। তৎপুরুষ সমাসকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই ভাগগুলির বিষয়ে জেনে রাখা ভালো, এইগুলি তৎপুরুষ সমাস চিনতে এবং নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস (Dwitia Tatpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে দ্বিতীয়া বিভক্তি “কে”, “রে” (কর্ম) যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. গাকে ধোয়া = গাধোয়া (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “গা” এর সঙ্গে দ্বিতীয়া বিভক্তি “কে” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “গাধোয়া” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “ধোয়া” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “গাধোয়া” বললে পূর্বপদ “গা” অর্থাৎ শরীর কে বুঝি না, “গাধোয়া” বললে আমরা এর পরপদ “ধোয়া” কেই বুঝি, “গাধোয়া” বলতে আমরা “গা” বা শরীর বুঝি না, আমরা এখানে স্নান করা বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. দেশকে ভাগ = দেশভাগ (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “দেশ” এর সঙ্গে দ্বিতীয়া বিভক্তি “কে” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “দেশভাগ” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “ভাগ” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “দেশভাগ” বললে পূর্বপদ “দেশ” কে বুঝি না, “দেশভাগ” বললে আমরা এর পরপদ “ভাগ” কেই বুঝি। কোনো ব্যক্তি যদি বলে যে “দেশভাগের সময় আমার জন্ম হয়েছিল” তাহলে আমরা ওই ব্যক্তির জন্ম দেশে হয়েছিল বা দেশের সময় হয়েছিল এরকম কিছু বুঝি না, আমরা এখানে ব্যক্তিটির জন্ম দেশ যখন ভাগ হয়েছিল তখন হয়েছে বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।)

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস (Tritia Tatpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি “দ্বারা”, “দিয়া”, “কর্তৃক” (করণ) যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. দা দিয়া কাটা = দাকাটা (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “দা” এর সঙ্গে দ্বিতীয়া বিভক্তি “দিয়া” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “দাকাটা” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “কাটা” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “দাকাটা” বললে পূর্বপদ “দা” কে বুঝি না, “দাকাটা” বললে আমরা এর পরপদ “কাটা” কেই বুঝি। “দাকাটা” বলতে আমরা “দা” বুঝি না, আমরা এখানে এমন কোনো কিছুকে বুঝি যা দা দিয়ে কাটা হয়েছে, কাটা না থাকলে “দাকাটা” বলাই হতো না তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. বজ্র দ্বারা আহত = বজ্রাহত (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “বজ্র” এর সঙ্গে দ্বিতীয়া বিভক্তি “দ্বারা” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “বজ্রাহত” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “আহত” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “বজ্রাহত” বললে পূর্বপদ “বজ্র” কে বুঝি না, “বজ্রাহত” বললে আমরা এর পরপদ “আহত” হওয়াটা কেই বুঝি। “বজ্রাহত” বলতে আমরা “বজ্র” বুঝি না, আমরা এখানে বজ্রের আঘাতে আহত হয়েছেন এমন কাউকে বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।)

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস (Choturthi Tatpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদের পর চতুর্থী বিভক্তি “কে”, “রে” (সম্প্রদান- স্বত্ব ত্যাগ করে অর্থে)/ “নিমিত্ত”, “জন্য” যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. ধর্মের নিমিত্ত পত্নী = ধর্মপত্নী (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “ধর্ম” এর পর “নিমিত্ত” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেটি বিলুপ্ত হয়ে “ধর্মপত্নী” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “পত্নী ” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ “ধর্মপত্নী ” বললে আমরা পূর্বপদ “ধর্ম” কে বুঝি না, “ধর্মপত্নী” বললে আমরা এর পরপদ “পত্নী ” কেই বুঝি, তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগলা (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “বিয়ে” এর পর “জন্য” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেটি বিলুপ্ত হয়ে “বিয়েপাগলা” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “পাগল” শব্দটাই অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ “বিয়েপাগলা” বললে আমরা পূর্বপদ “বিয়ে” কে বুঝি না, “বিয়েপাগলা” বললে আমরা এমন কাউকে বুঝি যে পাগল হয়ে রয়েছে বিয়ে করার জন্য, তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস (Ponchomi Tatpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি “হতে”, “থেকে”, “চেয়ে” (অপাদান) যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “যুদ্ধ” এর পর পঞ্চমী বিভক্তি “থেকে” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “যুদ্ধবিরতি” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “বিরতি” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “যুদ্ধবিরতি” বললে পূর্বপদ “যুদ্ধ” কে বুঝি না, “যুদ্ধবিরতি” বললে আমরা এর পরপদ “বিরতি” কেই বুঝি, “যুদ্ধবিরতি” বলতে আমরা কোনো যুদ্ধ থেকে বিরতি নেওয়া হয়েছে সেটাকেই বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. বাহির হতে আগত = বহিরাগত (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “বাহির” এর পর পঞ্চমী বিভক্তি “হতে” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “বহিরাগত” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “আগত” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “বহিরাগত” বললে পূর্বপদ “বাহির” কে বুঝি না, “বহিরাগত” বললে আমরা এর পরপদ “আগত” কেই বুঝি, “বহিরাগত” বলতে আমরা এমন কাউকে বুঝি যিনি বাহিরে কোথাও থেকে আগত হয়েছেন বা এসেছেন তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস (Sosthi Tatpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি “র”, “এর” (সম্বন্ধ বোঝাতে) যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. বনের ফুল = বনফুল (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “বন” এর সঙ্গে ষষ্ঠী বিভক্তি “এর” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “বনফুল” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “ফুল” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “বনফুল” বললে পূর্বপদ “বন” অর্থাৎ কোনো জঙ্গল কে বুঝি না, “বনফুল” বললে আমরা এর পরপদ “ফুল” কেই বুঝি, “বনফুল” বলতে আমরা “বন” বা জঙ্গল বুঝি না, আমরা এখানে ফোটে এমন কোনো ফুল কে বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. গঙ্গার জল = গঙ্গাজল (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “গঙ্গা” এর সঙ্গে ষষ্ঠী বিভক্তি “র” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “গঙ্গাজল” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “জল” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “গঙ্গাজল” বললে পূর্বপদ “গঙ্গা” নদী কে বুঝি না, “গঙ্গাজল” বললে আমরা এর পরপদ “জল” কেই বুঝি, “বনফুল” বলতে আমরা গঙ্গা নদীর জলকেই বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস (Saptami Totpurus Somas)

যে সকল তৎপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি “এ”, “তে”, “য়” (অধিকরণে তৎপুরুষ) যুক্ত থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর সেই বিভক্তি লুপ্ত হয়ে তা পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – 

১. সাহিত্যে সম্রাট = সাহিত্যসম্রাট (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “সাহিত্য” এর সঙ্গে সপ্তমী বিভক্তি “এ” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি লুপ্ত হয়ে “সাহিত্যসম্রাট” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “সম্রাট” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “সাহিত্যসম্রাট” বললে পূর্বপদ “সাহিত্য” কে বুঝি না, “সাহিত্যসম্রাট” বললে আমরা এর পরপদ “সম্রাট” কেই বুঝি, “সাহিত্যসম্রাট” বলতে আমরা কোনো ভাষা বা সাহিত্যে সুদক্ষ কোনো ব্যক্তিকে বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

২. গলায় ধাক্কা =গলাধাক্কা (এখানে এর ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ “গলা” এর সঙ্গে সপ্তমী বিভক্তি “য়” যুক্ত আছে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর বিভক্তি বিলুপ্ত হয়ে “গলাধাক্কা” হয়েছে এবং একইসঙ্গে এই সমাসটিতে এর পরপদ “ধাক্কা” অধিক প্রাধান্য পেয়েছে কারণ আমরা “গলাধাক্কা” বললে পূর্বপদ “গলা” কে বুঝি না, “গলাধাক্কা” বললে আমরা এর পরপদ “ধাক্কা” কেই বুঝি, “গলাধাক্কা” বলতে আমরা কারো গলায় ধরে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বুঝি তাই এখানে পরপদে প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।)

The post সহজে শিখি সমাস | কর্মধারয় সমাস ও তৎপুরুষ সমাস (Karmadharoy, Tatpurus Somas) appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
https://rajdeeppaulofficial.in/tatpurus-karmadharay-somas-tutorial/feed/ 1
Digu, Bohubrihi Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বিগু, বহুব্রীহি সমাস https://rajdeeppaulofficial.in/digu-bohubrihi-somas-tutorial/ https://rajdeeppaulofficial.in/digu-bohubrihi-somas-tutorial/#comments Fri, 30 Oct 2015 20:11:29 +0000 https://rajdeeppaulofficial.in/?p=215 বাংলা ব্যাকরণের সমাস বিষয়ের উপর তৈরী করা আজকের এই টিউটোরিয়ালটিতে আমি আপনাদের স্বাগত জানাই। এটি হলো Somas Tutorial Series এর তৃতীয় টিউটোরিয়াল আর্টিকেল। এর আগের টিউটোরিয়াল গুলোর মধ্যে প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও বিস্তারিতভাবে পড়েছিলাম এবং সমাসের বিভিন্ন প্রকারের বিষয়েও অবগত হয়েছিলাম এবং দ্বিতীয় টিউটোরিয়ালটিতে আমরা দ্বন্দ্ব সমাস ও অব্যয়ীভাব ... Read more

The post Digu, Bohubrihi Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বিগু, বহুব্রীহি সমাস appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
বাংলা ব্যাকরণের সমাস বিষয়ের উপর তৈরী করা আজকের এই টিউটোরিয়ালটিতে আমি আপনাদের স্বাগত জানাই। এটি হলো Somas Tutorial Series এর তৃতীয় টিউটোরিয়াল আর্টিকেল। এর আগের টিউটোরিয়াল গুলোর মধ্যে প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও বিস্তারিতভাবে পড়েছিলাম এবং সমাসের বিভিন্ন প্রকারের বিষয়েও অবগত হয়েছিলাম এবং দ্বিতীয় টিউটোরিয়ালটিতে আমরা দ্বন্দ্ব সমাস ও অব্যয়ীভাব সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে পড়েছিলাম এবং এইগুলি কিভাবে নির্ণয় করতে হয় তাও জেনেছিলাম।

তো আজকের এই টিউটোরিয়াল টিতে আমরা সমাসের ছয়টি প্রকারের মধ্যে  দ্বিগু সমাস ও বহুব্রীহি সমাস (Digu Somas and Bohubrihi Somas) এই দুইটি প্রকারের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানবো, বুঝবো এবং শিখবো। তবে সমাস সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা না থাকলে আজকের টিউটোরিয়ালটি কোনোভাবেই বুঝে ওঠা সম্ভবপর নয় তাই তোমাদের মধ্যে যারা এখনো সমাসের প্রথম টিউটোরিয়াল আর্টিকেলটি এখনো পড়ো নি তারা এই লিংকে ক্লিক করে আগে সেটা পড়ে নাও, কারণ ওই টিউটোরিয়ালটি পড়ে নিলে আজকের এই টিউটোরিয়ালটি খুব সহজেই তোমরা বুঝে নিতে পারবে।

দ্বিগু সমাস (Digu Somas)

দ্বিগু সমাসে পরপদে প্রাধান্য পায় এবং এই সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে অর্থাৎ যে সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে বা সংখ্যজাতীয় কিছু থাকে এবং এর সমাসে পরপদ বা উত্তরপদের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 

উদাহরণস্বরূপ —
   

১. চারটি রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা (এখানে “চৌ” হলো পূর্বপদ এবং “রাস্তা” হলো পরপদ। এখানে “চৌ” শব্দের দ্বারা সংখ্যা চার কে বোঝানো হয়েছে আর “রাস্তা” শব্দের দ্বারা রাস্তাকে বোঝানো হয়েছে কিন্তু এখানে চৌরাস্তা বলতে আমরা কিন্তু সংখ্যা চার কে বুঝি না, চৌরাস্তা বলতে আমরা কোনো রাস্তাকেই বুঝি তাই এখানে পরপদই প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক কিছু থাকে এবং সেটি পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।)     

২. পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী (এখানে “পঞ্চ” হলো পূর্বপদ এবং “বটী” হলো পরপদ। এখানে “পঞ্চ” শব্দের দ্বারা সংখ্যা পাঁচ কে বোঝানো হয়েছে আর “বটী” শব্দের দ্বারা বট গাছ কে বোঝানো হয়েছে কিন্তু এখানে পঞ্চবটী বলতে আমরা কিন্তু সংখ্যা পাঁচ কে বুঝি না, পঞ্চবটী বলতে আমরা বটগাছকেই বুঝি তাই এখানে পরপদই প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক কিছু থাকে এবং সেটি পরপদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।)

 

দ্বিগু সমাসের প্রকার (Types of Digu Somas)

সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্তপদের অর্থ এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে দ্বিগু সমাসকে দুই টি ভাগে ভাগ করা করা হয়েছে। যদিও এই ভাগগুলির সমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকে না কিন্তু তবুও দ্বিগু সমাসকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই ভাগগুলির বিষয়ে জেনে রাখা ভালো, এইগুলি দ্বিগু সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

তদ্ধিতার্থক দ্বিগু সমাস (Todwitarthok Digu Somas) 

যে সকল দ্বিগু সমাসে অর্থের বিনিময়ে কোনোকিছু কেনা হয়েছে বোঝাতে বা কোনো তদ্ধিতান্ত শব্দ বোঝাতে সংখ্যাবাচক পূর্বপদ দেওয়া থাকে তাকে তদ্ধিতার্থক দ্বিগু সমাস বলে। এই সমাসের ব্যাসবাক্যে একটি সংখ্যাবাচক শব্দ থাকার পাশাপাশি “ক্রীত”, “যাহার” ইত্যাদি শব্দ দেওয়া থাকে।  যেমন – 

১. সাতটি কড়ির বিনিময়ে ক্রীত = সাতকড়ি (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদে একটি সংখ্যা “সাত” আছে এবং এর পরপদ “কড়ি” এর দ্বারা কোনোকিছু কেনা হয়েছে বোঝাচ্ছে এবং এর ব্যাসবাক্যে “ক্রীত” শব্দটিও বিদ্যমান আছে তাই এটি হলো তদ্ধিতার্থক দ্বিগু সমাস।)

২. দুই মাতা যাহার = দ্বৈমাতুর (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদ “দ্বৈ” বলতে সংখ্যা দুই বোঝাচ্ছে এবং এর ব্যাসবাক্যে “যাহার” শব্দটিও বিদ্যমান আছে তাই এটি হলো তদ্ধিতার্থক দ্বিগু সমাস।)

৩. তিনটি কড়ির বিনিময়ে ক্রীত = তিনকড়ি (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদে একটি সংখ্যা “তিন” আছে এবং এর পরপদ “কড়ি” এর দ্বারা কোনোকিছু কেনা হয়েছে বোঝাচ্ছে এবং এর ব্যাসবাক্যে “ক্রীত” শব্দটিও বিদ্যমান আছে তাই এটি হলো তদ্ধিতার্থক দ্বিগু সমাস।)  

সমাহারার্থক দ্বিগু সমাস (Somohararthok Digu Somas)

যে সকল সমাসের পূর্বপদে কোনো সংখ্যা থাকে বা সংখ্যাবাচক কিছু থাকে এবং তা কোনোকিছুর সমাহার বা সমষ্টি কে  বোঝায় তাকে সমাহারার্থক দ্বিগু সমাসে বলে। যেমন – 

১. তিন পদের সমাহার = ত্রিপদী  (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদে “ত্রি” দ্বারা সংখ্যা তিন কে বোঝানো হয়েছে এবং এটিতে পদের সমাহার বা সমষ্টি বোঝাচ্ছে , তাই এটি হলো সমহারার্থক দ্বিগু সমাস।)

২. পঞ্চ নদের সমাহার = পঞ্চনদ  (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদে “পঞ্চ” দ্বারা সংখ্যা পাঁচ কে বোঝানো হয়েছে এবং এটিতে নদের সমাহার বা সমষ্টি বোঝাচ্ছে , তাই এটি হলো সমহারার্থক দ্বিগু সমাস।)

৩. সাত সমুদ্রের সমাহার = সাতসমুদ্র  (এই দ্বিগু সমাসের পূর্বপদে “সাত” দ্বারা সংখ্যা সাত কে বোঝানো হয়েছে এবং এটিতে সমুদ্রের সমাহার বা সমষ্টি বোঝাচ্ছে , তাই এটি হলো সমহারার্থক দ্বিগু সমাস।) 


দ্বিগু সমাস (Digu Somas) চেনার উপায়

  • দ্বিগু সমাসে পূর্বপদে সংখ্যা থাকে বা সংখ্যাবাচক শব্দ থাকে। 
  • দ্বিগু সমাসে পরপদে প্রাধান্য পায়। 
  • অধিকাংশ দ্বিগু সমাসের ব্যাসবাক্যে “সমষ্টি” বা “সমাহার” শব্দ যুক্ত থাকে। (বেশিরভাগ দ্বিগু সমাসের ব্যাসবাক্যে “সমাহার” যুক্ত থাকে)

বহুব্রীহি সমাস (Bohubrihi Somas)

বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের মধ্যে কোনোটাই প্রাধান্য পায় না, এখানে একটি নতুন অর্থ প্রাধান্য পায় অর্থাৎ বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ উভয় পদেরই কোনো গুরুত্ব থাকে এবং এখানে একটি নতুন অর্থের পদ প্রাধান্য পায় । উদাহরণস্বরূপ —  

১. বীণা পাণিতে যাহার  = বীণাপাণি (এখানে “বীণা” হলো পূর্বপদ এবং “পাণি” হলো উত্তরপদ বা পরপদ । কিন্তু এটির সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ  কোনোটাই প্রাধান্য পায়নি, কারণ এখানে পূর্বপদ “বীণা” এর অর্থ হলো একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র বিশেষ এবং পরপদ “পাণি” এর অর্থ হলো হাত কিন্তু এর সমাস “বীণাপাণি” শব্দের অর্থ বাদ্যযন্ত্রও নয় আর হাতও নয়, বীণাপাণি বলতে আমরা বাদ্যযন্ত্রও বুঝি না বা হাতও বুঝি না এখানে “বীণাপাণি” বলতে আমরা একটি নতুন অর্থ পাই এবং সেই অর্থ হলো দেবী সরস্বতী। তো এখানে আমরা  দেখতে পেলাম যে এখানে পূর্বপদ ও পরপদের কোনোটাই প্রাধান্য পায় নি, এখানে একটি নতুন অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ উভয়পদেরই প্রাধান্য থাকে না এবং একটি নতুন পদের প্রাধান্য পায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।)
   

২. গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ (এখানে “গায়ে” হলো পূর্বপদ এবং “হলুদ” হলো উত্তরপদ বা পরপদ । কিন্তু এটির সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ  কোনোটাই প্রাধান্য পায়নি, কারণ এখানে পূর্বপদ “গায়ে” এর অর্থ হলো দেহ বা শরীর এবং পরপদ “হলুদ” এর অর্থ হলো একপ্রকার রং বা একপ্রকার মশলা কিন্তু এর সমাস “গায়ে-হলুদ” শব্দের অর্থ দেহ বা শরীরও নয় আর কোনোপ্রকার রং বা মশলাও নয়, গায়ে-হলুদ বলতে আমরা শরীরও বুঝি না বা মশলাও বুঝি না এখানে “গায়ে-হলুদ” বলতে আমরা একটি নতুন অর্থ পাই এবং সেই অর্থ হলো বিয়ের আগে হওয়া একটি অনুষ্ঠান।)

 বহুব্রীহি সমাসের প্রকার (Types of Bohubrihi Somas)

ব্যাসবাক্যের গঠন, সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্তপদের অর্থ এবং পূর্বপদ ও পরপদের প্রকার ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বহুব্রীহি সমাসকে আট টি ভাগে ভাগ করা করা হয়েছে। যদিও এই ভাগগুলির সমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকে না কিন্তু তবুও বহুব্রীহি সমাসকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই ভাগগুলির বিষয়ে জেনে রাখা ভালো, এইগুলি বহুব্রীহি সমাস চিনতে এবং তা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস (Somanadhikoron Bohubrihi Somas)

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে একটি বিশেষ্য এবং অন্যটি বিশেষণ থাকে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। অর্থাৎ যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে একটিতে নামবাচক শব্দ থাকে এবং অন্যটিতে সেই নামবাচক শব্দের কোনো দোষ, গুণ বা অন্য  কোনো বিশেষতা বোঝানো হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। যেমন – 

১. সুন্দর যার স্ত্রী = সুশ্রী (এই বহুব্রীহি সমাসে “সুন্দর” বিশেষণ পদটির দ্বারা “স্ত্রী” এর গুণ বোঝানো হয়েছে তাই এটি হলো সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।)

২. নীল কণ্ঠ যাহার = নীলকণ্ঠ (এই বহুব্রীহি সমাসে “নীল” পদটি বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত করে “কণ্ঠে” নীল আছে যার তাকে বোঝানো হয়েছে এবং এটি তার একটি গুণ হিসাবে বোঝানো হয়েছে তাই এটি হলো সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।)

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস (Byadhikoron Bohubrihi Somas)

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের উভয়েই বিশেষ্য থাকে তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের পরপদে সর্বদা সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়) যুক্ত থাকে। যেমন – 

১. চন্দ্র চূড়ায় যাহার = চন্দ্রচূড় (এই বহুব্রীহি সমাসে “চন্দ্র” ও “চূড়া” দুইটি বিশেষ্যপদের ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এখানে চন্দ্রচূড় বলতে আমরা পূর্বপদ “চন্দ্র”ও বুঝি না বা পরপদ “চূড়া”ও বুঝি না, এখানে চন্দ্রচূড় বলতে একটি নতুন অর্থ বোঝানো হয়েছে এবং তা হলো “ভগবান শিব”। একইসঙ্গে ব্যাসবাকের পরপদে অর্থাৎ “চূড়া” শব্দের শেষে সপ্তমী বিভক্তি “য়” যুক্ত আছে।)

২. বীণা পাণিতে যাহার = বীণাপাণি (এই বহুব্রীহি সমাসে “বীণা” ও “পাণি” দুইটি বিশেষ্যপদের ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এখানে বীণাপাণি বলতে আমরা পূর্বপদ “বীণা”ও বুঝি না বা পরপদ “পাণি”ও বুঝি না, এখানে বীণাপাণি বলতে একটি নতুন অর্থ বোঝানো হয়েছে এবং তা হলো “দেবী সরস্বতী”। একইসঙ্গে ব্যাসবাকের পরপদে অর্থাৎ “পাণি” শব্দের শেষে সপ্তমী বিভক্তি “এ” যুক্ত আছে।)   

বহুব্রীহি সমাস (Bohubrihi Somas) চেনার উপায় :

  • বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়েরই প্রাধান্য থাকে না, এখানে একটি নতুন অর্থ প্রাধান্য পায়। 
  • বেশিরভাগ বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্যের পরপদে সর্বদা সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়) যুক্ত থাকে।


The post Digu, Bohubrihi Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বিগু, বহুব্রীহি সমাস appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
https://rajdeeppaulofficial.in/digu-bohubrihi-somas-tutorial/feed/ 1
Dando Somas, Ovyoyivab Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বন্দ্ব, অব্যয়ীভাব সমাস https://rajdeeppaulofficial.in/dando-ovyoyivab-bohubrihi-somas-tutorial/ https://rajdeeppaulofficial.in/dando-ovyoyivab-bohubrihi-somas-tutorial/#comments Mon, 26 Oct 2015 18:04:13 +0000 https://rajdeeppaulofficial.in/?p=202 এটি হলো বাংলা ব্যাকরণের সমাস বিষয়ের উপর দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল অর্থাৎ Somas Tutorial Series এর এটি দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল আর্টিকেল, এর আগের টিউটোরিয়ালে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও পড়েছিলাম এবং সমাসের বিভিন্ন প্রকারে বিষয়েও অবগত হয়েছিলাম। কিন্তু Somas Tutorial Series এর প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে আমরা সমাসের প্রকারগুলোর বিষয়ে শুধুমাত্র প্রাথমিক আলোচনা ... Read more

The post Dando Somas, Ovyoyivab Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বন্দ্ব, অব্যয়ীভাব সমাস appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
এটি হলো বাংলা ব্যাকরণের সমাস বিষয়ের উপর দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল অর্থাৎ Somas Tutorial Series এর এটি দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল আর্টিকেল, এর আগের টিউটোরিয়ালে আমরা সমাস কি তা বিস্তারিতভাবে জেনেছিলাম, একইসঙ্গে সমাসের বিভিন্ন অংশ যেমন ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, সমস্যমানপদ, পূর্বপদ উত্তরপদ ইত্যাদির বিষয়েও পড়েছিলাম এবং সমাসের বিভিন্ন প্রকারে বিষয়েও অবগত হয়েছিলাম। কিন্তু Somas Tutorial Series এর প্রথম টিউটোরিয়ালটিতে আমরা সমাসের প্রকারগুলোর বিষয়ে শুধুমাত্র প্রাথমিক আলোচনা করেছিলাম যাতে সমাসের সেই প্রকারগুলোর বিষয়ে আমরা এক প্রাথমিক ধারণা পেতে পারি। 

তো আজকের এই টিউটোরিয়াল টিতে আমরা সমাসের ছয়টি প্রকারের মধ্যে  দ্বন্দ্ব সমাস ও অব্যয়ীভাব সমাস (Dando Somas and Obyoyivab Somas) এই দুইটি প্রকারের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানবো, বুঝবো এবং শিখবো। তবে সমাসের সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা না থাকলে আজকের টিউটোরিয়ালটি কোনোভাবেই বুঝে ওঠা সম্ভবপর নয় তাই তোমাদের মধ্যে যারা এখনো সমাসের প্রথম টিউটোরিয়াল আর্টিকেলটি এখনো পড়ো নি তারা এই লিংকে ক্লিক করে আগে সেটা পড়ে নাও, কারণ ওই টিউটোরিয়ালটি পড়ে নিলে আজকের এই টিউটোরিয়ালটি খুব সহজেই তোমরা বুঝে নিতে পারবে। 

দ্বন্দ্ব সমাস (Dando Somas)

দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই সমান প্রাধান্য পায় অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ উভয় পদেরই সমান গুরুত্ব থাকে। উদাহরণস্বরূপ —

১. সুখ ও দুঃখ  = সুখদুঃখ (এখানে “সুখ” হলো পূর্বপদ এবং “দুঃখ” হলো পরপদ। এখানে সুখ ও দুঃখ উভয়পদেরই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  সুখদুঃখ বলতে আমরা “সুখ” ও “দুঃখ” দুইটাকেই বুঝি তাই এখানে উভয়পদই সমান প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে উভয়পদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।)     

২. ছেলে ও মেয়ে  = ছেলেমেয়ে (এখানে “ছেলে” হলো পূর্বপদ এবং “মেয়ে” হলো উত্তরপদ বা পরপদ । এখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়পদেরই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছেলেমেয়ে বলতে আমরা “ছেলে” ও “মেয়ে” দুইটাকেই বুঝি তাই এখানে উভয়পদই সমান প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে উভয়পদে প্রাধান্য পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।)

দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকার (Types of Dando Somas):

সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্তপদের অর্থ এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে দ্বন্দ্ব সমাসকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা করা হয়েছে। যদিও এই ভাগগুলির সমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকে না কিন্তু তবুও দ্বন্দ্ব সমাসকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই ভাগগুলির বিষয়ে জেনে রাখা ভালো, এইগুলি দ্বন্দ্ব সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Milonarthok Dando Somas)

যে সকল সমাসের পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক বোঝায় বা কোনো মিলনার্থক সম্বন্ধ বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে অর্থাৎ যখন বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত বা কোনো মিলনার্থক সম্বন্ধযুক্ত দুইটি পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয় তখন তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Milonarthok Dando Somas) বলে। যেমন – 

১. স্বামী ও স্ত্রী = স্বামীস্ত্রী (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “স্বামী” এবং পরপদ “স্ত্রী” এর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তাই এটি হলো মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

২. মেয়ে ও জামাই = মেয়েজামাই (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “মেয়ে” এবং পরপদ “জামাই” এর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তাই এটি হলো মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

৩. পথ ও ঘাট = পথঘাট (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “পথ” এবং পরপদ “ঘাট” এর মধ্যে একটি মিল পাওয়া যায় বা একটি মিলনার্থক সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়, তাই এটিও হলো মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)  

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Biporitarthok Dando Somas)

যে সকল সমাসের পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোনো বিপরীত অর্থবিশিষ্ট সম্পর্ক আছে বোঝায় তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে অর্থাৎ যখন বিপরীতার্থক সম্পর্কযুক্ত দুইটি পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয় তখন তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Biporitarthak Dondo Somas) বলে। যেমন – 

১. পাপ ও পুণ্য = পাপপুণ্য  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “পাপ” পরপদ “পুণ্য” এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাই এটি হলো বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

২. কাঁচা ও পাকা = কাঁচাপাকা  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “কাঁচা” পরপদ “পাকা” এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাই এটি হলো বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

৩. জন্ম ও মৃত্যু = জন্মমৃত্যু  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “জন্ম” পরপদ “মৃত্যু” এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাই এটিও হলো বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)  

বিরোধীতার্থক বা বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব সমাস

যে সকল দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোনো বিরোধী বা বিকল্পের মতো অর্থবিশিষ্ট সম্পর্ক আছে বোঝায় তাকে বিরোধীতার্থক বা বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে অর্থাৎ যখন বিরোধীতার্থক বা বিকল্পার্থক সম্পর্কযুক্ত দুইটি পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয় তখন তাকে বিরোধীতার্থক বা বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Birodharthak or Bikolparthok Dando Somas) বলে। যেমন – 

১. দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “দা” পরপদ “কুমড়া” এর বিরোধী হিসাবে অর্থ প্রকাশ করে (কারণ দা দিয়ে কুমড়া কাটা হয়), তাই এটি হলো বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)  

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস (Aluk Dando Somas)

যে সকল দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ ও পরপদের শেষে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং এর সমাসবদ্ধ পদেও সেই বিভক্তি চিহ্ন অক্ষুণ্ন থাকে তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে অর্থাৎ যে সকল দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ, উত্তরপদ এবং সমাসবদ্ধ পদে বিভক্তি যুক্ত থাকে তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস (Aluk Dando Somas) বলে।  যেমন – 

১. বুকে ও পিঠে = বুকে-পিঠে  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “বুক” এবং পরপদ “পিঠ” এর মধ্যে “এ” বিভক্তি যুক্ত আছে (বুক + এ = বুকে, পিঠ + এ = পিঠে) এবং এর সমাসবদ্ধ পদ “বুকে-পিঠে” তেও “এ” বিভক্তি যুক্ত রয়েছে, তাই এটি হলো অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।) 

২. দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে   (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “দুধ” এবং পরপদ “ভাত” এর মধ্যে “এ” বিভক্তি যুক্ত আছে (দুধ + এ = দুধে, ভাত + এ = ভাতে) এবং এর সমাসবদ্ধ পদ “দুধেভাতে” শব্দটিতেও “এ” বিভক্তি যুক্ত রয়েছে, তাই এটি হলো অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।) 

Please Note:- যে সকল সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদের মধ্যে যেকোনো একটি পদে বা উভয়পদে কোনো বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং সেই বিভক্তি সমাসবদ্ধ পদেও অক্ষুন্ন থাকে সেই সকল সমাসকে অলুক বলা হয়, এবং এইধরণের অলুক- দ্বন্দ্ব সমাস, বহুব্রীহি সমাস এবং তৎপুরুষ সমাসেও আছে। 

এবার এই অলুক দ্বন্দ্ব সমাস, অলুক বহুব্রীহি সমাস এবং অলুক তৎপুরুষ সমাসের মধ্যে পার্থক্য হলো :-

  • অলুক দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং এর সমাসবদ্ধ পদেও সেই বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে এবং যেহেতু এটি দ্বন্দ্ব সমাসের একটি প্রকার তাই এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন – সাপে ও নেউলে = সাপেনেউলে (এখানে পূর্বপদ “সাপ” এবং পরপদ “নেউল” এর মধ্যে “এ” বিভক্তি যুক্ত আছে এবং এই বিভক্তি এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “সাপেনেউলে” শব্দতেও অক্ষুন্ন রয়েছে এবং যেহেতু এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “সাপেনেউলে” শব্দটির মধ্যে এর পূর্বপদ “সাপ” এবং পরপদ “নেউল” উভয়েরই সমান প্রাধান্য রয়েছে তাই এটিকে অলুক দ্বন্দ্ব বলা হয়)
  • অলুক বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যেকোনো একটি পদে বা উভয়পদে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং এর সমাসবদ্ধ পদেও সেই বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে এবং যেহেতু এটি বহুব্রীহি সমাসের একটি প্রকার তাই এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের কোনোটারই প্রাধান্য থাকে না, এই সমাসে একটি নতুন অর্থ প্রাধান্য পায় । যেমন – গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ (এখানে পূর্বপদ “গায়ে” এর মধ্যে “এ” বিভক্তি যুক্ত আছে এবং এই বিভক্তি এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “গায়েহলুদ” শব্দতেও অক্ষুন্ন রয়েছে এবং যেহেতু এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “গায়েহলুদ” শব্দটির মধ্যে এর পূর্বপদ “গায়ে” এবং পরপদ “হলুদ” উভয়ের কোনোটাই প্রাধান্য পায় নি, এখানে গায়েহলুদ বলতে আমরা একই নতুন অর্থ পাই তাই এটিকে অলুক বহুব্রীহি বলা হয়)। (বহুব্রীহি সমাসের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো।)
  • অলুক তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের মধ্যে বিভক্তি যুক্ত থাকে এবং সেই বিভক্তি এর সমাসবদ্ধ পদেও অক্ষুন্ন থাকে এবং যেহেতু এটি তৎপুরুষ সমাসের একটি প্রকার তাই এই সমাসে পূর্বপদের প্রাধান্য থাকে। যেমন – কানে কালা = কানে-কালা (এখানে পূর্বপদ “কান ” এর মধ্যে “এ” বিভক্তি যুক্ত আছে (কান + এ = কানে) এবং এই বিভক্তি এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “কানে-কালা” শব্দতেও অক্ষুন্ন রয়েছে এবং যেহেতু এই সমাসের সমাসবদ্ধ পদ “কানে-কালা” শব্দটির মধ্যে এর পূর্বপদ “কান” শব্দটিই প্রাধান্য পেয়েছে তাই এটিকে অলুক তৎপুরুষ বলা হয়)। (তৎপুরুষ সমাসের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো।)

সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস (Somarthak Dando Somas)

যে সকল দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোনো সহচর অর্থের বা সমান অর্থের সম্পর্ক আছে বোঝায় তাকে সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ যখন দুইটি সমান অর্থবিশিষ্ট বা বন্ধুসুলভ অর্থবিশিষ্ট দুইটি পদ মাইল দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয় তখন সেটা সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন – 

১. হাট ও বাজার = হাটবাজার  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “হাট” এবং পরপদ “বাজার” এর অর্থ প্রায় সমান এবং এইদুই পদের মধ্যে একটি বন্ধুসুলভ বা ভাতৃসুলভ সম্বন্ধ লক্ষ্য করা যায়, তাই এটি হলো সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

২. চা ও টা = চা-টা  (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “চা” এবং পরপদ “টা” এর অর্থ প্রায় সমান এবং এইদুই পদের মধ্যে একটি বন্ধুসুলভ বা ভাতৃসুলভ সম্বন্ধ লক্ষ্য করা যায়, তাই এটি হলো সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

৩. শাক ও সবজি = শাকসবজি   (এই দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ “শাক” এবং পরপদ “সবজি” এর অর্থ প্রায় সমান এবং এইদুই পদের মধ্যে একটি বন্ধুসুলভ বা ভাতৃসুলভ সম্বন্ধ লক্ষ্য করা যায়, তাই এটিও হলো সহচর-অর্থক বা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।)

দ্বন্দ্ব সমাস চেনার উপায় :

  • দ্বন্দ্ব সমাসে উভয়পদ প্রধান হয় অর্থাৎ পূর্বপদ এবং পরপদের সমাসন প্রাধান্য থাকে। 
  • বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব সমাসের সমাসবদ্ধ পদে বা সমস্তপদে হাইফেন (-) চিহ্ন দেওয়া থাকে। 
  • দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যে বা বিগ্রহবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে  “ও”, “এবং”, “আর” এই তিনটি অব্যয়ের যেকোনো একটি যুক্ত থাকে। (বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যে “ও” যুক্ত থাকে)

Please Note:- কোনো সমাসের পূর্বপদ ও পরপদে যদি দুইটি বিশেষণ থাকে এবং তা কোনো একই ব্যক্তি বা একই বস্তুকে নির্দেশ করে তখন সেই সমাসের ব্যাসবাক্যে “ও”, “এবং” বা “আর” থাকলেও তা দ্বন্দ্ব সমাস হয় না, তা কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন – চালাক ও চতুর = চালাকচতুর (এখানে একজন ব্যক্তির কথাই বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর।)

অব্যয়ীভাব সমাস (Abyoyivab Somas)

যে সমাসে পূর্বপদে একটি অব্যয় (সংস্কৃত উপসর্গ বা যথা) থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর এই অব্যয় পদটির অর্থই প্রধান হয়ে উঠে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে  অর্থাৎ অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদ প্রধান হয় এবং সেই পূর্বপদটি একটি অব্যয় পদ হয় (এখানে অব্যয়পদ বলতে সংস্কৃত উপসর্গ  বা যথা ব্যবহৃত হয়) । উদাহরণস্বরূপ —
   

১. ভিক্ষার অভাব  = দুর্ভিক্ষ (এখানে “দূর” হলো পূর্বপদ যেটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ এবং “ভিক্ষা” হলো পরপদ। এখানে “দূর” শব্দের দ্বারা অভাব কে বোঝানো হয়েছে আর “ভিক্ষা” শব্দের দ্বারা ভিক্ষাকে বোঝানো হয়েছে কিন্তু এখানে দুর্ভিক্ষ বলতে আমরা ভিক্ষাকে বুঝি না, দুর্ভিক্ষ বলতে আমরা ভিক্ষার অভাবকে বুঝি তাই এখানে পূর্বপদই প্রাধান্য পেয়েছে আর যে সমাসে পূর্বপদে প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।)     

২. সময়কে অতিক্রম না করে  = যথাসময়ে (এখানে “যথা” হলো পূর্বপদ যেটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ এবং “সময়” হলো পরপদ। এখানে “যথা” শব্দের দ্বারা সঠিক কে বোঝানো হয়েছে আর “সময়” শব্দের দ্বারা সময়কে বোঝানো হয়েছে কিন্তু এখানে যথাসময়ে বলতে আমরা শুধুমাত্র সময়কে বুঝি না, যথাসময়ে বলতে আমরা সঠিক সময়কে বুঝি তাই এখানে পূর্বপদই প্রাধান্য পেয়েছে।)

অব্যয়ীভাব সমাসের প্রকার :

সাধারণভাবে অব্যয়ীভাব সমাসের আলাদা করে কোনো প্রকার নেই কিন্তু অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে বা বিগ্রহবাক্যে নিম্নলিখিত প্রকারগুলি লক্ষ্য করা যায় –

অভাব :- অব্যয়ীভাব সমাসের সমাসবদ্ধপদে বা সমস্তপদে কোনোকিছুর অভাব বোঝানোর জন্য এর পূর্বপদে “দূর”, “নির”, “বে”, “গর” ইত্যাদি উপসর্গ যুক্ত থাকে। যেমন –

নীতির অভাব = দুর্নীতি (দূর + নীতি = দুর্নীতি —- এখানে নীতির অভাব বোঝানোর জন্য সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “দূর” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন (নির + বিঘ্ন = নির্বিঘ্ন —- এখানে বিঘ্নের অভাব বোঝানোর জন্য সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “নির” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

……………………………………………………….

প্রতি :- অব্যয়ীভাব সমাসের সমাসবদ্ধপদে বা সমস্তপদে প্রতিনিয়ত বা ক্রমাগত কোনোকিছু বোঝানোর জন্য এর পূর্বপদে “প্রতি” উপসর্গ যুক্ত করা হয়।  যেমন –

দিন দিন = প্রতিদিন (প্রতি + দিন = প্রতিদিন —- এখানে দিনের ধারাবাহিকতা বোঝানোর জন্য সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “প্রতি” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

গৃহে গৃহে = প্রতিগৃহে (প্রতি + গৃহে = প্রতিগৃহে —- এখানে গৃহের ধারাবাহিকতা বোঝানোর জন্য সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “প্রতি” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

……………………………………………………….

যথা :- অব্যয়ীভাব সমাসে কোনোকিছু অনতিক্রম (অতিক্রম না করা) বোঝাতে এর সমাসবদ্ধপদের পূর্বপদে “যথা” যুক্ত করা হয়। যেমন –

সময়কে অতিক্রম না করিয়া = যথাসময় (যথা + সময়ে = যথাসময়ে —- এখানে সময়কে অতিক্রম করা হয়নি বোঝাতে সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “যথা” যুক্ত করা হয়েছে।)

সাধ্যকে অতিক্রম না করিয়া = যথাসাধ্য (যথা + সাধ্য = যথাসাধ্য —- এখানে সাধ্যকে অতিক্রম করা হয়নি বোঝাতে সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “যথা” যুক্ত করা হয়েছে।)

……………………………………………………….

পর্যন্ত :- অব্যয়ীভাব সমাসে কোনোকিছুর সীমা বা প্রান্ত অবধি বোঝানোর জন্য এর ব্যাসবাক্যে “পর্যন্ত” এবং এর সমাসবদ্ধপদের পূর্বপদে “আ” উপসর্গ যুক্ত করা হয়। যেমন –

কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ (আ + কণ্ঠ = আকণ্ঠ —- এখানে কণ্ঠ পর্যন্ত সীমাকে বোঝানোর জন্য এর সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “আ” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

জীবন পর্যন্ত = আজীবন (আ + জীবন = আজীবন —- এখানে জীবনের শেষ সীমা পর্যন্ত বোঝানোর জন্য এর সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “আ” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

……………………………………………………….

সাদৃশ্য/ সামীপ্য :- অব্যয়ীভাব সমাসে কোনোকিছুর সঙ্গে কোনোকিছুর মিল বোঝাতে বা কোনোকিছুর সমজাতীয় অন্য কোনোকিছুকে বোঝাতে বা কোনোকিছুর নিকটবর্তী অন্য কোনোকিছুকে বোঝাতে এর ব্যাসবাক্যে “সদৃশ”, “সমীপে” ইত্যাদি ব্যবহৃত হয় এবং এর সমাসবদ্ধপদের পূর্বপদে “উপ”, “অনু” ইত্যাদি যুক্ত করা হয়। যেমন –

দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ (উপ + দ্বীপ = উপদ্বীপ —- এখানে কোনো দ্বীপের সঙ্গে মিল থাকা অন্য দ্বীপ বোঝাতে বা দ্বীপের মতো দেখতে অন্য দ্বীপকে বোঝানোর জন্য এর সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “উপ” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

কূলের সমীপে = উপকূল (উপ + কূল = উপকূল —- এখানে কোনো কূলের নিকটবর্তী থাকা অন্য কূল বোঝাতে এর সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “উপ” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

রূপের সদৃশ = অনুরূপ (অনু + রূপ = অনুরূপ —- এখানে কোনো একটি রূপের সঙ্গে মিল থাকা অন্য রূপ বোঝাতে বা রূপের সমজাতীয় অন্য রূপকে বোঝানোর জন্য এর সমাসবদ্ধ পদের পূর্বপদে “অনু” উপসর্গ যুক্ত করা হয়েছে।)

অব্যয়ীভাব সমাস চেনার উপায় :

  • অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে একটি অব্যয় (সংস্কৃত উপসর্গ বা যথা) থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর এই অব্যয় পদ থাকা পূর্বপদের অর্থই প্রধান হয়ে থাকে।   
  • অব্যয়ীভাব সমাসের সমাসবদ্ধ পদে বা সমস্তপদের শুরুতে কোনো সংস্কৃত উপসর্গ  বা “যথা”, “উপ”, “অনু”, “প্রতি” ইত্যাদি যুক্ত থাকে। 
  • সাধারণত বেশিরভাগ অভয়ভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে বা বিগ্রহবাক্যে “অভাব”, “সদৃশ”, “সমীপে”, “যোগ্য”, “পর্যন্ত”, “অতিক্রম” ইত্যাদি শব্দ যুক্ত থাকে।

………………………………………………………

তো এই ছিল সমাস টিউটোরিয়াল সিরিজের দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল আর্টিকেল, এর পরবর্তী টিউটোরিয়ালে আমরা দ্বিগু সমাস এবং বহুব্রীহি সমাসের বিষয়ে পড়বো, জানবো এবং শিখবো। দ্বন্দ্ব সমাস এবং অব্যয়ীভাব সমাসের এই টিউটোরিয়ালটিতে যদি কারো কিছু বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারো, আমি চেষ্টা করবো এর সমাধান দেওয়ার। এবং যদি টিউটোরিয়ালটি ভালো লেগে থাকে তাহলেও সেটা নিচে কমেন্ট করে জানাবে এবং আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবে। ধন্যবাদ। 


The post Dando Somas, Ovyoyivab Somas | সহজে শিখি সমাস | দ্বন্দ্ব, অব্যয়ীভাব সমাস appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
https://rajdeeppaulofficial.in/dando-ovyoyivab-bohubrihi-somas-tutorial/feed/ 3
Bengali Grammar Somas (সমাস কি) | Types Of Somas (সমাসের প্রকার) https://rajdeeppaulofficial.in/what-is-somas-types-of-somas/ https://rajdeeppaulofficial.in/what-is-somas-types-of-somas/#comments Sat, 17 Oct 2015 10:44:00 +0000 https://rajdeeppaulofficial.in/?p=174 বাংলা ব্যাকরণে সমাস (Somas) হলো এমন এক বিষয় যা আমাদের মধ্যে প্রায় সকলেই পড়তে গেলে আমরা আর পড়ি না বা পড়তে চাই না এবং সেটা শিখতেও চাই না কারণ আমরা সবাই সমাস কি তা সঠিকভাবে বুঝতে পারি না আর তাই এটি খুব কঠিন একটা বিষয় মনে করে সমাস শেখার উপর গুরুত্ব দেই না। আমাদের মধ্যে অনেকে আবার সমাসকে “ছমাস”ও ... Read more

The post Bengali Grammar Somas (সমাস কি) | Types Of Somas (সমাসের প্রকার) appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
বাংলা ব্যাকরণে সমাস (Somas) হলো এমন এক বিষয় যা আমাদের মধ্যে প্রায় সকলেই পড়তে গেলে আমরা আর পড়ি না বা পড়তে চাই না এবং সেটা শিখতেও চাই না কারণ আমরা সবাই সমাস কি তা সঠিকভাবে বুঝতে পারি না আর তাই এটি খুব কঠিন একটা বিষয় মনে করে সমাস শেখার উপর গুরুত্ব দেই না। আমাদের মধ্যে অনেকে আবার সমাসকে “ছমাস”ও বলে থাকেন, এটা শিখতে নাকি ছয় মাস সময় লাগে তাই। সমাস বিষয়টা কিন্তু এতো বেশি কঠিনও নয় যে এটি শিখতে ছয় মাস সময় লাগবে। আমরা যদি একটু  বুঝে নিয়ে শেখার চেষ্টা করি তাহলে খুব সহজেই আমরা সমাস (Somas) শিখে নিতে পারবো। 

আমাদের মধ্যে অনেকে আবার সমাস কি তা বোঝার চেষ্টা না করে মুখস্ত করে শেখার চেষ্টা করে, আসলে ছোটবেলা থেকেই যখন আমরা সমাস শেখার চেষ্টা করি ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণী শ্রেণীতে, তখন থেকেই আমরা সমাসকে না বুঝে শুধুমাত্র মুখস্থ করার মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করি তাই সমাস আমাদের শেখা হয়ে ওঠে না কারণ সমাস কে না বুঝে শুধুমাত্র মুখস্থ করার মাধ্যমে কখনোই শেখা যায় না। 

আজ আমরা এই টিউটোরিয়ালটিতে সমাস কি তা জানবো, সমাস কিভাবে করতে হয় এবং সমাসের প্রকারগুলি কি কি সে বিষয়েও জানবো। আজকের এই টিউটোরিয়ালটি Somas Tutorial Series এর প্রথম টিউটোরিয়াল, আমরা এই সিরিজের পরবর্তী টিউটোরিয়ালগুলোতে সমাসের প্রকারগুলি কিভাবে চিনতে হয় সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে জানবো এবং সেগুলি শুধুমাত্র মুখস্থ করে নয় সেগুলি আমরা বোঝার মাধ্যমে শিখবো। 

সমাস (Somas) কি ?

পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দুই বা দুইয়ের অধিক পদের মিলনে যখন তা একপদে পরিণত হয় তখন তাকে সমাস (Somas) বলা হয়। সমাস বিষয়টি কোনো কিছুকে বড়ো করা শেখায় না, সমাস সবসময় কোনোকিছুকে ছোট করতে শেখায় অর্থাৎ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা দুইয়ের অধিক শব্দ বা শব্দগুচ্ছের মিলনে যখন তা ছোটো হয়ে একটি শব্দে পরিণত হয় তখন সেই শব্দকে সমাস বলা হয়। এককথায় বলতে গেলে সমাস যে কাজটি করে সেটি হলো কোনো বাক্যকে বা শব্দগুচ্ছকে ছোট করে সেই বাক্যের অর্থ একটি শব্দে প্রকাশ করে।   

উদাহরণস্বরূপ:-

১. রথকে দেখা = রথদেখা  (এখানে “রথকে” এবং “দেখা” এই দুইটি পদের মিলনে একপদে পরিণত হয়ে তা “রথদেখা” হয়েছে, তাই এখানে “রথদেখা” শব্দটিই হচ্ছে “রথকে”এবং “দেখা” এই  শব্দ দুইটির সমাস (Somas)। 

২. রাজার পুত্র = রাজপুত্র (এখানে “রাজার” এবং “পুত্র” এই দুইটি পদ মিলিত হয়ে যে নতুন পদে পরিণত হয়েছে তা হলো “রাজপুত্র” এবং এই “রাজপুত্র” শব্দটিই হলো “রাজার” এবং “পুত্র” এই শব্দ দুইটির সমাস। 

আমাদের জীবনে সমাসের (Somas) ব্যবহার 

আমরা সমাস (Somas) কে বাংলা ব্যাকরণের খুব বেশি কঠিন একটি বিষয় মনে করি কিন্তু আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তায় সমাস অনেকবার ব্যবহার করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ আমরা এখানে একটি মাছির উদাহরণ নিতে পারি। মাছি কিন্তু অনেক ধরণের হয়, কিছু কিছু মাছি আছে যারা এমাজন, আটলান্টিক ফরেস্ট ইত্যাদির মতো বৃহৎ এবং ঘন জঙ্গলে থাকে। এই মাছিগুলি খুব বেশি মারাত্মক হয়, এরা হুল ফোটালে মানুষ মারাও যেতে পারে। এই গুলি ছাড়া আরও কিছু মাছি আছে যারা অনেক খারাপ খারাপ ও দুর্গন্ধময় জায়গায় যায় এবং বিভিন্ন ধরণের রোগ ছড়ায়, এই গুলি হলো আরেক ধরণের মাছি।  এছাড়াও আরও কিছু মাছি আছে যারা খারাপ জায়গায় যায় না, এরা ভালো জায়গায় যায় অর্থাৎ বিভিন্ন ফুল গাছে গিয়ে ফুলের মধু সংগ্রহ করে। তো আমরা এখানে যেকোনো ধরণের মাছির কথা বলতে গেলে কিরকম বলবো —- 

উদাহরণ হিসাবে আমরা এখানে তৃতীয় ধরণের মাছিটাকেই নিলাম কারণ এমাজন জঙ্গলে তো আমরা যাচ্ছি না তাই সেই ভয়ঙ্কর আর বিষাক্ত মাছি গুলি আমরা দেখছিও না, কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধরণের মাছি আমরা অনেকসময়ই দেখতে পাই। তো মনে করো আমরা মধু সংগ্রহ করে যেসব মাছি সেইরকম একটি মাছিকে দেখেছি, অর্থাৎ আমরা একটি মৌমাছিকে দেখেছি, তো এই কথাটি যখন আমরা অন্য কাউকে বলতে যাবো তখন আমরা কিভাবে বলবো ? 

আমরা কি এরকম বড়ো করে বলবো যে “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি আমরা সেইরকম মাছি দেখেছি”……. না কখনোই না, আমরা কখনোই এরকম বড়ো করে বলি না, আমরা এখানে মধু সংগ্রহ করে যে মাছি সেইরকম মাছি দেখেছি এটা বোঝানোর জন্য বাক্যটিকে ছোট করে আমরা একটি মৌমাছি দেখেছি এরকম বলবো কারণ এটাই সহজ আর এভাবেই আমরা সমাসকে ব্যবহার করে থাকি এবং সেটা কিভাবে তা নিচের লিখাগুলো পড়লেই বুঝতে পারবে — 

মধু সংগ্রহ করে যে মাছি = মৌমাছি 

এখানে “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি” এই বাক্যটি ৫ টি শব্দ দিয়ে গঠিত একটি বাক্য আর পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এই পাঁচটি শব্দের মিলনে তা একপদে পরিণত হয়ে যে নতুন শব্দটি তৈরী হয়েছে সেই মৌমাছি শব্দটি হলো এই ৫টি শব্দ থাকা বাক্যটির সমাস এবং আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বড়ো বাক্যটি না বলে সবসময়ই বাক্যটির সমাস কেই বলে থাকি। এইভাবে আরও হাজার হাজার সমাস আছে যা আমরা আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে কথা বলার সময় ব্যবহার করে থাকি। 

সমাস (Somas) কি কি কাজ করে করে :

সমাস প্রধানত নিম্নলিখিত তিনটি কাজ করে থাকে :-

  • একপদীকরণ :- সমাস কোনো বাক্য বা শব্দগুচ্ছকে একপদে পরিণত করে। 
  • সংক্ষেপন :- সমাস বড়ো বাক্যকে সংক্ষিপ্ত বা সংক্ষেপন করে ছোট শব্দে পরিণত করে। 
  • পদের মিলন :- সমাস কোনো বাক্যের মধ্যে থাকা দুই বা ততোধিক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত শব্দের অর্থপূর্ণ মিলন ঘটায়। 

Related Post :- What is Present Tense… Parts of Present Tense.

সমাসের বিভিন্ন অংশ সমূহের সঙ্গে পরিচয়    

সমাসের বেশ কিছু অংশ আছে যেমন বিগ্রহ বাক্য বা ব্যাসবাক্য, সমস্ত পদ, সমস্যমান পদ, পূর্বপদ, পরপদ বা উত্তরপদ ইত্যাদি।তো আমরা এবার এই অংশগুলির সঙ্গে পরিচিত হবো —

সমস্ত পদ (Somostho Pod) বা সমাসবদ্ধ পদ

পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা বহুপদের মিলনে যখন তা একপদে পরিণত হয় তখন সেই পদটিকে সমস্তপদ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো বাক্যকে একপদে পরিণত করার পর যখন সেই পদটি সম্পূর্ণ বাক্যটির অর্থ প্রকাশ করে তখন সেই পদটিকে সমস্ত পদ বলে। আরও ভালোভাবে বোঝানোর জন্য উদাহরণ হিসাবে নিচের বাক্যটাকে নিলাম– যেমন —

“সিংহের মতো পুরুষ = সিংহপুরুষ” ….. এখানে “সিংহের মতো পুরুষ” বাক্যটি একপদে পরিণত হয়ে “সিংহপুরুষ” হয়েছে এবং যেহেতু “সিংহপুরুষ” বলতেই “সিংহের মতো পুরুষ” এই বাক্যের সমস্ত অর্থটাই বোঝাচ্ছে তাই এখানে “সিংহপুরুষ” শব্দটি হলো সমস্ত পদ। এককথায় বলতে গেলে কোনো বাক্যের বা শব্দগুচ্ছের সমাসই হলো বাক্যটির বা শব্দগুচ্ছগুলির সমস্তপদ। 

বিগ্রহবাক্য বা ব্যাসবাক্য (Bigroho Bakyo/ Byas Bakyo)

যে বাক্যটা থেকে সমাস তৈরী হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে অর্থাৎ যে বাক্য বা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত শব্দগুচ্ছগুলি ছোট হয়ে একপদে পরিণত হয় অর্থাৎ সমাস হয় সেই বাক্যটিকে বা শব্দগুচ্ছগুলিকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে। ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যের আরেকটি নাম হলো সমাসবাক্য। উদাহরণস্বরূপ-

মধু সংগ্রহ করে যে মাছি = মৌমাছি 

উপরোক্ত উদাহরণটির মধ্যে “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি” এই বাক্যটি হলো ব্যাস বাক্য, বিগ্রহ বাক্য বা সমাস বাক্য আর “মৌমাছি” শব্দটি হলো বাক্যটির সমাস। এক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই সমাসের ব্যবহার করে থাকি, আমরা মধু সংগ্রহ করা কোনো মাছিকে বোঝাতে কখনোই “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি” এইরকম ভাবে সম্পূর্ণ একটি বড়ো বাক্য কখনোই বলি না, আমরা সবসময় এই বাক্যের সমাস অর্থাৎ “মৌমাছি” শব্দের ব্যবহার করে থাকি। 

সমস্যমান পদ (Somossoman Pod)

ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যের মধ্যে থাকা দুই বা ততোধিক পদ যদি সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্তপদে বিদ্যমান থাকে তখন এই পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। অন্যভাবে বলতে গেলে ব্যাসবাক্যের যে পদগুলি সমাসে বিদ্যমান থাকে সেই পদগুলোকেই সমস্যমান পদ বলা হয় । উদাহরণস্বরূপ –

কাজলের মতো কালো = কাজলকালো (যেহেতু “কাজলের মতো কালো” বাক্যটির সমাস “কাজলকালো” পদটির মধ্যে “কাজল” ও “কালো” এই পদ দুইটি বিদ্যমান আছে তাই এই পদ দুইটি হলো সমস্যমান পদ।)

রাজার পুত্র = রাজপুত্র (যেহেতু “রাজার পুত্র ” বাক্যটির সমাস “রাজপুত্র” পদটির মধ্যে “রাজা” ও “পুত্র” এই পদ দুইটি বিদ্যমান আছে তাই এই পদ দুইটি হলো সমস্যমান পদ।)

পূর্বপদ এবং পরপদ বা উত্তরপদ (Purbopod and Poropod or Uttorpod)

অর্থ অনুসারে সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদকে দুইভাগে ভাগ করলে প্রথম যে ভাগটি পাওয়া যাবে সেটি হবে পূর্বপদ এবং শেষের যে ভাগটি থাকবে সেটি হবে পরপদ বা উত্তরপদ। উদাহরণস্বরূপ –

১. রথ কে দেখা = রথদেখা (এই উদাহরণটিতে “রথ কে দেখা” বাক্যটির সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ হলো “রথদেখা” এবং এই সমাসবদ্ধ পদকে অর্থ অনুসারে দুইভাগে ভাগ করলে প্রথম যে ভাগটি হবে সেটি হলো “রথ” এবং পরের বা শেষের যে ভাগটি হবে সেটি হলো “দেখা” । তো যেহেতু সমাসবদ্ধ পদের প্রথম ভাগকে পূর্বপদ এবং শেষের ভাগকে পরপদ বলা হয় সেইহেতু এখানে এই উদাহরণটিতে “রথ” শব্দটি হবে পূর্বপদ এবং “দেখা” শব্দটি হবে পরপদ বা উত্তরপদ। 

২. মধু সংগ্রহ করে যে মাছি = মৌমাছি  (এই উদাহরণটিতে “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি” বাক্যটির সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ হলো “মৌমাছি” এবং এই সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদকে অর্থ অনুসারে দুইভাগে ভাগ করলে প্রথম যে ভাগটি পাওয়া যাবে সেটি হবে “মৌ” এবং পরে বা শেষে যে ভাগটি পাওয়া যাবে সেটি হবে “মাছি” । তো যেহেতু সমাসবদ্ধ পদের প্রথম ভাগকে পূর্বপদ এবং শেষের ভাগকে পরপদ বলা হয় সেইহেতু এই উদাহরণটিতে “মৌ” শব্দটি হবে পূর্বপদ এবং “মাছি” শব্দটি হবে পরপদ বা উত্তরপদ।

সমাস কিভাবে নির্ধারণ করতে হয়

সমাস নির্ণয় করার সময় পূর্বপদ ও পরপদ বা উত্তরপদ এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে কারণ পূর্বপদ ও পরপদের উপর ভিত্তি করে আমরা অনেকগুলি সমাস নির্ণয় করতে পারি। কোনো কোনো সমাসে পূর্বপদ প্রাধান্য পায়, কোনো কোনো সমাসে পরপদ প্রাধান্য পায়, কিছু কিছু সমাসে উভয়পদই প্রাধান্য পায় আবার কিছু কিছু সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের কোনোটাই প্রাধান্য পায় না। তো এইভাবেই পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোন পদ প্রাধান্য পায় এর উপর ভিত্তি করে সমাস নির্ধারণ করা যায়। 

যেমন – “মধু সংগ্রহ করে যে মাছি” ব্যাসবাক্যটির সমাস হলো “মৌমাছি” এবং এই মৌমাছি সমাসটির মধ্যে পূর্বপদ হলো “মৌ” এবং “পরপদ হলো “মাছি”, এবার “মৌমাছি” বলতে আমরা কি বুঝি বা কি দেখি ? — “মধু” দেখি নাকি মাছি জাতীয় কোনো প্রাণী দেখি………. অবশ্যই আমরা মৌমাছি বলতে মধু বুঝি না বা মধু দেখি না, মৌমাছি বলতে আমরা মাছি জাতীয় একটি প্রাণী বুঝি তাই এখানে “মৌমাছি” সমাসটির মধ্যে পরপদ প্রাধান্য পেয়েছে।     ঠিক একইভাবে “মাতা ও পিতা” ব্যাসবাক্যটির সমাস হলো “মাতাপিতা” এবং এর পূর্বপদ হলো “মাতা” এবং পরপদ বা উত্তরপদ হলো “পিতা” কিন্তু এই সমাসটির মধ্যে মাতা ও পিতা দুইজনকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাই এখানে উভয়পদেরই সমান প্রাধান্য পেয়েছে। 

সমাসের প্রকার :

সমাস প্রধানতঃ ছয় প্রকার – দ্বন্দ্ব সমাস, বহুব্রীহি সমাস, অব্যয়ীভাব সমাস, তৎপুরুষ সমাস, দ্বিগু সমাস এবং কর্মধারয় সমাস। এইগুলির মধ্যে দ্বিগু ও কর্মধারয় সমাস দুইটি আলাদা আলাদা সমাস হলেও এই দুইটি সমাস তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত। 

দ্বন্দ্ব সমাস (Dando Somas)

দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই সমান প্রাধান্য পায় অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ উভয় পদেরই সমান গুরুত্ব থাকে। যেমন- স্বামী ও স্ত্রী = স্বামীস্ত্রী, মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

 
(দ্বন্দ্ব সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে দ্বন্দ্ব সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

বহুব্রীহি সমাস (Bohubrihi Somas)

বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের মধ্যে কোনোটাই প্রাধান্য পায় না, এখানে একটি নতুন অর্থ প্রাধান্য পায়। যেমন – চন্দ্র চূঁড়ায় যাহার = চন্দ্রচূড়, রত্ন গর্ভে যাহার = রত্নগর্ভা ইত্যাদি। 


(বহুব্রীহি সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে বহুব্রীহি সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

অব্যয়ীভাব সমাস (Abyoyivab Somas)

যে সমাসে পূর্বপদে একটি অব্যয় (সংস্কৃত উপসর্গ বা যথা) থাকে এবং সমাসবদ্ধ হওয়ার পর এই অব্যয় পদটির অর্থই প্রধান হয়ে উঠে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন – গতির অভাব = বেগতিক, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য ইত্যাদি। 


(অব্যয়ীভাব সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে অব্যয়ীভাব সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

দ্বিগু সমাস (Digu Somas)

দ্বিগু সমাসে পরপদে প্রাধান্য পায় এবং এই সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে অর্থাৎ যে সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে বা সংখ্যজাতীয় কিছু থাকে এবং এর সমাসে পরপদ বা উত্তরপদের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন – সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি, চারটি রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি। 


(দ্বিগু সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে দ্বিগু সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

কর্মধারয় সমাস (Karmodharayo Somas)

কর্মধারয় সমাসেও দ্বিগু সমাসের মতো পরপদে প্রাধান্য পায় এবং এই সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে না এই সমাসে কোনোকিছুর তুলনা বোঝায় অর্থাৎ যে সমাসের পরপদ বা উত্তরপদের প্রাধান্য থাকে এবং তা কোনোকিছুর তুলনা বোঝায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন – কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, সিংহের মতো পুরুষ = সিংহপুরুষ ইত্যাদি। 


(কর্মধারয় সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে কর্মধারয় সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

তৎপুরুষ সমাস (Tatpurus Somas)

তৎপুরুষ সমাসেও দ্বিগু ও কর্মধারয় সমাসের মতো পরপদে প্রাধান্য পায় এবং এই সমাসের শুরুতে সংখ্যা থাকে না বা এটা কোনোকিছুর তুলনাও বুঝায় না, কিন্তু এই সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি যুক্ত থাকে অর্থাৎ যে সমাসের পরপদ বা উত্তরপদের প্রাধান্য থাকে এবং এর পূর্বপদে বিভক্তি যুক্ত থাকে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – বুদ্ধিদ্বারা হীন = বুদ্ধিহীন, রথকে দেখা = রথদেখা ইত্যাদি ।

 
(তৎপুরুষ সমাসের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে শেখার জন্য এখানে ক্লিক করে তৎপুরুষ সমাসের Tutorial টি পড়তে পারো)

………………………………………………………………………

তো এটি ছিল সমাসের বিষয়ে প্রথম টিউটোরিয়াল, এটিতে আমরা সমাস সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি, সমাস কি তা জেনেছি, সমাসের অংশ ও সমাসের প্রকার গুলোর বিষয়েও জেনেছি এবং সমাস কিভাবে নির্ণয় করতে হয় সেটাও জেনেছি। সমাসের পরবর্তী টিউটোরিয়াল এ আমরা সমাসের প্রকার গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানবো। এই টিউটোরিয়ালে যতটুক পড়ানো হয়েছে এর মধ্যে কারো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে বা কিছু না বুঝলে নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারো, আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো। টিউটোরিয়ালটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ। 

Next Tutorial- Read it Now – সহজে শিখি সমাস । দ্বন্দ্ব, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি সমাস 

The post Bengali Grammar Somas (সমাস কি) | Types Of Somas (সমাসের প্রকার) appeared first on RajdeepPaulOfficial.in.

]]>
https://rajdeeppaulofficial.in/what-is-somas-types-of-somas/feed/ 7